এ যেন এক নিঃসঙ্গ সেতু!

এ যেন এক নিঃসঙ্গ সেতু!

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম বাছিরপুর এলাকার ছোট একটি খালের ওপর সেতুটি। দীর্ঘ এক যুগ ধরে সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। পড়ছে না মানুষের পদচিহ্ন। দীর্ঘদিন যাবত সেতুর উভয় পাশে মাটি না থাকায় এলাকাবাসীর কোনো উপকারে আসছে না। দেখাশোনারও যেন কেউ নেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আশেপাশের প্রায় ১০০টি পরিবারের শত শত মানুষ ঝুলন্ত অবস্থায় সেতুর একপাশ দিয়ে অনেক কষ্ট করে পারাপার হচ্ছেন। সেতুটি পারাপারে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে এলাকার বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুরা। ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পারাপার হতে গিয়ে প্রতিদিনই ঘটছে নানা ধরনের দুর্ঘটনা। বর্তমানে সেতুটি ব্যবহার করতে না পেরে এলাকার গৃহবধূরা সেতুর একপাশে লাকরি শুকানোর কাজে ব্যবহার করছেন।

জানা যায়, এ সেতুটিতে মাটি ভরাটের বিষয়ে বারবার এ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি কোন ব্যবস্থা করে দেননি বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।

এলাকার বাসিন্দারা বলেন, সেতুটি নির্মাণ হওয়ার পর যোগাযোগ ব্যবস্থার বেশ উন্নয়ন হবে এমন ধারণায় আমরা বেশ আনন্দিত হয়েছিলাম। কিন্তু মাটি না থাকার করার কারণে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। প্রায় ১২ বছর ধরে দুর্ভোগ যেন আমাদের নিত্যসঙ্গী। কালভার্টের এ দুর্ভোগের জন্য মসজিদ‌ ও স্থানীয় বাজারে যাতায়াতে আমাদের কষ্টের যেন শেষ নেই।

স্থানীয় ৩ নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত দুই বারের ইউপি সদস্য আমির হোসেন বলেন, ২০১১ সালে প্রথম সদস্য নির্বাচিত হয়ে পরের বছর অর্থাৎ ২০১২ সালে সরকারের ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এখানে একটি কালভার্ট নির্মাণ করি। আশে পাশের মানুষ মাটি না দেওয়ায় তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

এ বিষয়ে পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শ্রীকান্ত দাশ বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আগামিতে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।