গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারে ফের নির্বাচনী হাওয়া

গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারে ফের নির্বাচনী হাওয়া

সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে ফের বইছে নির্বাচনী হাওয়া। কিছুদিন আগেই শেষ হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এর রেশ পুরোপুরি শেষ হতে না হতেই বইছে গোলাপগঞ্জে উপজেলা পরিষদ উপ নির্বাচন এবং বিয়ানীবাজার পৌর নির্বাচনকেন্দ্রীক ভোটের হাওয়া।

গত সোমবার (২৫ এপ্রিল) নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসীল অনুযায়ী, সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচন ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদে উপ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে আগামী ১৫ জুন। আর রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ ১৭ মে, রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক মনোনয়ন বাছাই ১৯ মে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৬ মে। এরপর ১৫ জুন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতীহীনভাবে বিয়ানীবাজার পৌরসভার নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, বিয়ানবীবাজার পৌরসভায় দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হবে ভোট উৎসব। নির্বাচন তফসিল ঘোষণার আগেই নানাভাবে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়ে আসছিলেন প্রার্থীরা। পবিত্র মাহে রমজান মাসেও ইফতার আয়োজন, খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন মহা ধুমধামে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল প্রকাশের পর অনেকটা নড়েচড়ে বসেছেন প্রার্থীরা। এতো দিন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালালেও এবার নিজেদের প্রকাশ্যে আনছেন তারা।

পৌর মেয়রের চেয়ারে বসতে দেশি প্রার্থীদের সঙ্গে টক্কর দিতে মাঠে নামছেন প্রবাসীরাও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কর্মী-সমর্থকদের দিয়ে ছবি ভাইরাল করাচ্ছেন। তবে, তালিকা দীর্ঘ ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর। সবার একটাই প্রত্যাশা দলীয় প্রতীক নৌকা। এরইমধ্যে অনেকে লবিং-তদবিরও শুরু হয়েছে নানাভাবে।

নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পূর্ণ প্রস্তুতি রাখলেও প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা অনেকটা নীরব ভূমিকায় রয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও স্বতন্ত্রের ব্যানারে দলের অনেকে প্রার্থী হতে পারেন, এমনটি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
 
স্থানীয়রা বলেন, এবারো ক্ষমতাসীন দলের হয়ে নৌকা পেতে পারেন বর্তমান মেয়র আব্দুস শুকুর। তবে তাকে থালি মাঠে ছেড়ে দিতে নারাজ রাজনৈতিক সতীর্থরা। পৌরসভার মেয়রের মসনদে বসতে তাদেরও চোখ নৌকায়। তারাও এবার বৈতরণী পার হতে চান নৌকায় উঠে। এরইমধ্যে অনেকে প্রবাস থেকেও চলে এসেছেন। পাড়া মহল্লায় সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিবিড়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।

তবে গ্রামীণ শহর হওয়াতে প্রতীকে ভোট হলেও আঞ্চলিকতার ছাপ ভোটের মাঠে থাকবে, এমনটি মনে করছেন পৌরবাসী। আঞ্চলিকতার জোয়ার-ভাটায় দলীয় প্রতীকের হিসাব গৌণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরইমধ্যে অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে প্রার্থী তালিকায়। তাদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস শুকুর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও জেলার সদস্য আব্দুল হাসিব মনিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আব্দুল কুদ্দুস টিটু, বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ফারুকুল হক, কানাডা প্রবাসী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আহবাব হোসেন সাজু, সাবেক পৌর প্রশাসক মো. তফজ্জুল হোসেন, সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাসুক আহমদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে আসতে পারেন পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু নাসের পিন্টু, সিপিবি'র উপজেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম ও প্রভাষক আব্দুস সামাদ আজাদ।

জানা গেছে, সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌরসভা গঠনের পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে কমিশন। ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল বিয়ানীবাজার পৌরসভা গঠন হলেও মামলা জটিলতায় টানা ১৬ বছর কেটেছে প্রশাসক দিয়ে। পৌরসভা গঠনের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু আদালতের রায়ে সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তফজ্জুল হোসেন প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়ে কাটিয়ে দেন দীর্ঘ ১৬ বছর। এই সময়ে পৌর এলাকার মানুষ ভোট বঞ্চিত হয়েছেন বার বার। আক্ষরিত অর্থে পৌরবাসী ভোটার স্বপ্ন লালন করা বাদ-ই দিয়েছিলেন। অতঃপর নির্বাচন আদায় সংগ্রাম পরিষদের তৎপরতায় ১৬ পর আদালতের রায়ে ভোটাধিকার ফিরে পান পৌরবাসী।

২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল প্রথমবারের মতো এই পৌরসভায় ভোটের আয়োজন করা হয়। এরপরও ভোট হওয়ার আগ পর্যন্ত ছিল নানা সংশয়। অবশেষে ভোটের লড়াইয়ে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন মো. আব্দুস শুকুর। তিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন।

এদিকে, গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মরহুম অ্যাডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌঁড়ঝাঁপ শুরু হয়েছিল গোলাপগঞ্জে। সেটি আরও বেগবান হয়েছে তফসিল ঘোষণার পর।

জানা গেছে, গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের অন্তত একজন নেতা নৌকা প্রত্যাশী। তারা হলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) লুৎফুর রহমান, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বদরুল ইসলাম শোয়েব, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা হুমায়ুন ইসলাম কামাল, সিলেট জেলা আওয়ামীলীগ নেতা সৈয়দ মিছবাহ উদ্দিন, সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মঞ্জুর শাফি চৌধুরী এলিম, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আকবর আলী ফখর, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা শাহিদুর রাহমান চৌধুরী জাবেদ, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমান) মনসুর আহমদ, ঢাকাদক্ষিণ সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক ভিপি আমেরিকা প্রবাসী শফিক আহমদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ফরহাদ আহমদ।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জানুয়ারী গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. ইকবাল আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুতে এ পদটি শূন্য হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান (প্যানেল চেয়ারম্যান) নাজিরা বেগম শীলা।