দাম বাড়ায় সিলেটের পাম্পগুলোতে হুলস্থুল কাণ্ড!

দাম বাড়ায় সিলেটের পাম্পগুলোতে হুলস্থুল কাণ্ড!

দেশে বেড়েছে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম। আজ শনিবার (৬ আগস্ট) রাত ১২টা থেকে নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্টোল।

এদিকে, জ্বালানি তেলের দাম ছড়িয়ে পড়লে সিলেটের নগরীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও পেট্রল পাম্পগুলোতে ঘটছে হুলস্থুল কাণ্ড। প্রায় প্রত্যেকটি পাম্পে গাড়ি ও মোটরসাইকেলচালকদের প্রচন্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এই সুযোগে অধিক লাভের আশায় সিলেটের কতিপয় অসাধু জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী শুক্রবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যারাত থেকে পাম্পে ‘তেল নেই’ বলে বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। 


 
আর অনেকে ১০০ টাকা লিটারে পেট্রল বিক্রি করতে চাইছেন। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের কদমতলি এলাকার এম এস মো. সোলেমান বক্স সিএনজি ফিলিং স্টেশনে (সাবেক নাইম সিএনজি পাম্প) এ চিত্র দেখা গেছে। এছাড়াও নগরীর শাহজালাল উপশহর এলাকার এমএ হক পাম্পেও ছিলো একই অব্স্থা। তেলের দাম বাড়িয়ে বিক্রির পায়তারায় ক্ষুব্ধ হয়ে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক এবং সোবহানীঘাট-উপশহর সড়ক অবরোধ করেন গ্রাহকরা। এসময় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায় গ্রাহকদের। এসব গ্রাহকের মধ্যে মোটরসাইকেল চালকের সংখ্যাই বেশি। 
 
রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কোনো পাম্পই জ্বালানি বিক্রি করছে না এবং এসব জায়গায় সড়ক অবরোধ অব্যাহত ছিলো ও ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের বিক্ষোভ চলছিলো। এতে রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং লোকজন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তবে এসব স্থানে পুলিশ কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করছে না বলে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট মহানগরীর প্রায় প্রত্যেকটি পাম্পেই দাম বাড়ার খবর পেয়েই জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। 

নগরীর দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুলস্থ মেসার্স দিবারাত্রি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল নিয়ে পেট্রোল ক্রয় করতে আসা সিলাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য নোমানুল  ইসলাম সাজু বলেন, বাড়িতে ছিলাম। গাড়িতে তেল কম। তাই তেল নিতে এসেছি। পাম্পে এসে দেখি পা ফেলার জায়গা নাই। মূলত দাম বৃদ্ধির কারণে মানুষের এমন অবস্থা। 

একটি এনজিও সংস্থায় কাজ করেন শরিফ আহমেদ। ম্যাসে ছিলেন। হঠাৎ ফেসবুকে তেলের দাম বৃদ্ধির খবর দেখে পাম্পে এসেছেন। প্রায় ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করেও তেল নিতে পারছেন না। 

জাহান মিয়া নামের এক ব্যক্তি একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। তিনি দাম বৃদ্ধির খবর পেয়ে পাম্পে তেল নিতে এসেছেন। তবে দীর্ঘ লাইন থাকায় কখন তেল পাবেন তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

দিবারাত্রি ফিলিং স্টেশনের ক্যাশ ম্যানেজার বলেন, আমরা প্রত্যেক ক্রেতাকে ২০০ টাকার উপর তেল দিচ্ছি না৷ এতো লোক কখনো আমাদের পাম্পে পেট্রোল নিতে আসেন নি। মানুষের উপস্থিত বেশি থাকায় আমরা কিছুটা বিপাকে আছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক রাত বারোটায় নতুন দামে তেল বিক্রি করবো। বারোটার আগেই আমরা পুরোনো দামে তেল বিক্রি করে যাবো।

উল্লেখ্য, সকল ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করে শুক্রবার রাতে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়- বৈশ্বিক বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ার কারণে বাংলাদেশ প্রেট্টোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), ইস্টার্ণ রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)-এ পরিশোধিত এবং আমদানি/ক্রয়কৃত ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্টোল এর মূল্য সমন্বয় করে ভোক্তা পর্যায় পুণঃনির্ধারণ করা হলো। নতুন দামে ভোক্তাদের শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে ডিপোর ৪০ কিলোমিটারের ভিতর ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা মূল্য প্রতি লিটার ডিজেল ১১৪ টাকা, কেরোসিন ১১৪ টাকা, অকটেন ১৩৫ টাকা ও পেট্টোল ১৩০ টাকা ধরে কিনতে হবে।