দেড় যুগেও সংস্কার হয়নি যে সড়ক

দেড় যুগেও সংস্কার হয়নি যে সড়ক

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থেকে সুনামগঞ্জের ছাতক পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পাকা সড়ক। পিচঢালাই উঠে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দুই পাশের ব্লক এবং মাটিও সরে গেছে।

সড়কটিতে যান চলাচল অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে। যে কটি যান চলে, তাতে অধিক ভাড়া দিয়ে চলাচল করতে হয়। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন সড়কটি নির্মাণের দেড় যুগে একবারও সংস্কার করা হয়নি।

২০০৪-০৫ সালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে আমবাড়ি পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়। এর ফলে সুনামগঞ্জের ছাতকের সঙ্গে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সরাসরি যোগাযোগ গড়ে ওঠে। শুরুতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সড়কটির কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) মাটির কাজ, দুই পাশের ব্লক, একটি সেতু, দুটি কালভার্টসহ পাকা সড়ক নির্মাণ করে। নির্মাণের পর থেকে সড়কটিতে আর কোনো সংস্কার কাজ হয়নি।

বুড়িডহর গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল আহমদ বলেন, ছাতক-কোম্পানীগঞ্জ সড়কটির স্থানে স্থানে পিচের আস্তরণ উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। এই সড়কে হাঁটাও এখন ভীষণ দায়।

লামনীগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আফতাব আলী বলেন, সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ জন্য স্কুলের শিক্ষার্থীরা পড়ে ভোগান্তিতে। জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন।

সিএনজি অটোরিকশাচালক লাহিন বলেন, ‘কোম্পানীগঞ্জ-ছাতক সড়কে নিয়মিত গাড়ি চালাই। একবার গেলে আর চালাতে মন চায় না। গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। ভাঙা স্থানে গাড়ি উল্টে ঘটে দুর্ঘটনা।’

জাকির হোসেন নামের এক যুবক বলেন, সড়কের দুই পাশের ব্লকগুলো মানুষ সরিয়ে ফেলেছে। সড়কের পাথর অনেকে বাড়ির নির্মাণকাজে ব্যবহার করছে। ব্লক সরিয়ে ফেলায় গত বন্যায় সড়কের অনেকাংশে দুই পাশের মাটি ধসে পড়েছে। এতে সড়কটি আরও ঝুঁকিতে পড়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শামীম আহমদ বলেন, শুরুতে সড়কটির মাটির কাজ এলজিইডি করলেও পরবর্তীতে সওজের কাছে এর দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। মাঝখানে কিছুদিন এ সড়ক নিয়ে এলজিইডি-সওজের মধ্যে রশি টানাটানি হয়েছে। এ সড়ক মেরামতের জন্য মন্ত্রী ইমরান আহমদ ডিও লেটার দিয়েছিলেন। কিন্তু, সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে আসেনি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কোম্পানীগঞ্জের প্রকৌশলী শাহ আলম বলেন, সড়কটির নির্মাণকাজ শুরুতে এলজিইডি করেছে। এটির দেখভালের দায়িত্ব এখন সওজের। মেরামত না হওয়ার কারণ সওজই বলতে পারবে।

এ বিষয়ে সিলেট সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ছাতক-কোম্পানীগঞ্জ সড়কটি আগেই ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। এবার বন্যায় আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেরামতের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি একটি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য কাজ চলছে।