শাবির টং দোকানের আড্ডা এখন শুধুই স্মৃতি

শাবির টং দোকানের আড্ডা এখন শুধুই স্মৃতি

শাদমান শাবাব, শাবিপ্রবি প্রতিনিধি || শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) টং দোকানে শিক্ষার্থীদের আড্ডা যেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী মান্না দে'র কফি হাউসের গানের চরিত্রের আড্ডার প্রতিচ্ছবি। স্বার্থের পৃথিবীতে অর্থহীন বিষয়ে বন্ধুদের সংগে টংয়ে বসে যুক্তিতর্ক, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা, বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা আর সংস্কৃতি চর্চা এখন শাবিপ্রবি’র শিক্ষার্থীদের কাছে শুধুই স্মৃতিকথা। এদিকে ক্যাম্পাস বন্ধের আগ থেকে টং বন্ধ থাকায় টং দোকানিদের মানবেতর জীবনযাপনের কথাগুলো যেন সকলের অগোচরেই থেকে যাচ্ছে।

করোনার পরে এমন পরিস্থিতিতে অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন মাধ্যমে টং স্থাপনের জন্য অনুমতির দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, ক্যাম্পাসে ক্যাফেটেরিয়া আর গিফারী চত্বরে শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার আর বসার ব্যবস্থা থাকলেও তা যথেষ্ট নয়। এমনই দাবি জানিয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ইমরান হায়দার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটানো সময়ের স্মৃতিগুলো প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি অবসর সময়ে ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সংগে সময় কাটাতে না পারি; তাহলে আমাদের স্মৃতিগুলো ওতোটা রঙ্গিন হবে না। আমরা অন্যের সংগে সহজে মিশতে পারবো না এবং একে-অপরকে জানতে এবং না। ফলে অনেকের মাঝে একাকিত্ব বাড়বে। বর্তমানে ক্যাফেটেরিয়া ও গিফারী-চত্বরে খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও তা শিক্ষার্থীদের অনুপাতে পর্যাপ্ত নয়।

জানা যায়, শাবিপ্রবি'র ৩য় সমাবর্তনে সময় একাডেমিক ভবন “বি” সংলগ্ন রাস্তার পাশের টংগুলো উঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। করোনায় ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার মাঝে শিক্ষাভবন “সি” এবং “ই”র সামনে টংগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এখন প্রশাসনের অনুমতি না থাকায় টং খুলতে পারছে না দোকানিরা।

গতকাল মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে ঘুরে দেখা যায়, আগে যে টংগুলো শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকতো, সেখানে এখন সুনসান নিরবতা। কোথাও কোথাও টংয়ের চিহ্নও নেই। আবার কোথাও টংয়ের কাঠামোগুলো ধ্বংসাবাশেষের মতো পড়ে আছে। অথচ আগে এই টংয়ে শেষ বিকেলে বসতো গান আর আড্ডার আসর। কফি হাউসের গানের মানুষের সেই সোনালি বিকেলের মতো টংয়ে কাটানো শিক্ষার্থীদের সোনালি বিকেল যেন হারিয়ে গেছে।

এদিকে টং খুলতে না পারায় মানবেতর জীবনযাপন করছে টং দোকানিরা। এই বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে টং দোকান মালিক জসিম লিখেন, “১৪ বছর বয়সে ১৯৯২ সালে শাহপরাণ হলের টেবিল বয় হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করি। সেই সময় থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমার সম্পর্ক। করোনার সময়ে আমার দোকান বন্ধ হয়ে যায়। এখন বিশ্ববিদ্যালয় খুলেছে। তবে আমার টং দোকান খুলতে দেওয়া হচ্ছে না। তাইলে কী আমি টং দোকান খুলতে পারবো না?...”

ক্যাম্পাসে পুণরায় টং চালু করার বিষয়ে শাবিপ্রবি'র প্রক্টর ড. আলমগীর কবির বলেন, শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে অল্প সময়ের মাঝে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ফুড কোর্ট এবং গ্যারেজের আশেপাশের টং খুলে দেওয়া হবে। তবে, শিক্ষাভবন ‘বি' সংলগ্ন টং এবং ‘সি’ ও ‘ই’ বিল্ডিংয়ের মধ্যবর্তী টংগুলো খোলার অনুমতি দেওয়া হবে না৷ এগুলো আমাদের একাডেমিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করে।