সুরমার পানি কমছে, বাড়ছে কুশিয়ার 

সুরমার পানি কমছে, বাড়ছে কুশিয়ার 

সুরমার পানি নদীর পানি কমতে শুরু করলেও বাড়ছে কুশিয়ারার। আর এখনও পানির নিচে জেলার বেশির ভাগ এলাকা। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যা থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে ও সিলেট পয়েন্টে কিছুটা কমেছে। এ সময়ে কুশিয়ারার পানি শেরপুর পয়েন্টে কমলেও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বেড়েছে ৫ সেন্টিমটার, তবে কমেছে সারি ও লোভা নদীর পানি।

পাউবোর সিলেট কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী নিলয় পাশা বলেন, 'কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জে বাড়ার কারণে ওই উপজেলার কিছু এলাকা নতুন করে প্লাবিত হতে পারে, তবে তা মারাত্মক কিছু হবে না।
নদীর পানি কমতে থাকায় প্লাবিত এলাকাগুলোর পানিও হ্রাস পেতে শুরু করেছে। নগরের নিচু এলাকাগুলো ছাড়া অন্যান্য এলাকা থেকে পানি প্রায় নেমেই গেছে, তবে উপশহর, তালতলা, তেররতন, ঘাসিটুলাসহ বিভিন্ন এলাকা এখনও জলমগ্ন।'

নগরের বাইরের বেশির ভাগ এলাকা এখনও প্লাবিত। দুর্ভোগ বাড়ছে এসব এলাকার মানুষের। নগরের বেশির ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরে এলেও বাইরের প্লাবিত এলাকাগুলো অন্ধকারে।

দক্ষিণ সুরমার হবিনন্দি এলাকার বাসিন্দা সুজন আহমদ বলেন, 'চার দিন ধরে আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। ঘরে এখনও পানি। নারী ও শিশুদের আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠিয়েছি, কিন্তু ঘরের জিনিসপত্রের নিরাপত্তায় আমাদের এই ভয়ংকর অবস্থার মধ্যেই থাকতে হচ্ছে।'

বন্যায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা। এ উপজেলার প্রায় পুরোটাই তলিয়ে যায় পানিতে। সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ মহাসড়কও তলিয়ে যায়, তবে এখন পানি অনেকটাই কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজং।

তিনি বলেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ধীরগতিতে পানি নামতে শুরু করেছে। বর্ণি এলাকা ছাড়া সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মহাসড়কের বাকি এলাকাগুলো থেকে পানি নেমে গেছে। পানি কমলেই ক্ষয়ক্ষতির আসল চিত্র জানা যাবে বলে জানান এই ইউএনও।

কোম্পানীগঞ্জ ছাড়াও গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, বিশ্বনাথ ও সিলেট সদর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবে দক্ষিণ সুরমা ও ফেঞ্চুগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে পানি বেড়েছে।