সেতুর আলোয় আলোকিত পদ্মা

সেতুর আলোয় আলোকিত পদ্মা

স্বপ্নের পদ্মা সেতু আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হবে আগামী ২৫ জুন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহুল প্রতীক্ষিত এই সেতুর উদ্বোধন করবেন। ২৬ জুন সকাল থেকে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগব্যবস্থার নতুন দ্বার উন্মোচিত হতে চলেছে।উদ্বোধনের ১০ দিন আগে এবার স্বপ্নের পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তেই ঝলমল করে জ্বলে উঠল আলো। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৪ মিনিটে মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তের ৪১৫টি ল্যাম্পপোস্টে একসঙ্গে বাতি জ্বালানো হয়। এই প্রথম পুরো পদ্মা সেতু আলোকিত হলো, বাতি জ্বলল সব কটি ল্যাম্পপোস্টে।

বিদ্যুতের দায়িত্বে থাকা সেতু বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী সাদ্দাম হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ৪ জুন বিকেলে পদ্মা সেতুতে পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালানো হয়। ওই দিন সেতুর ১৪ থেকে ১৯ নম্বর পিলারের মাঝামাঝিতে ২৪টি ল্যাম্পপোস্টে বাতি জ্বালানো হয়েছিল। এরপর ১১ জুন পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে সেতুর সব কটি বাতি জ্বালানো হয়। তখন সেতুতে জেনারেটরের মাধ্যমে বাতি জ্বালানো হয়েছিল। সোমবার মাওয়া প্রান্তে বৈদ্যুতিক সংযোগের মাধ্যমে ২০৭টি বাতি জ্বালানো হয়।মঙ্গলবার মূল সেতুর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার ও দুই প্রান্তের ৩ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার ভায়াডাক্টে একসঙ্গে আলো জ্বালানো হয়।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আবদুল কাদের মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানান, মুন্সিগঞ্জ ও জাজিরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দেওয়া বৈদ্যুতিক সংযোগের মাধ্যমে এই প্রথম সম্পূর্ণ সেতুর ৪১৫টি ল্যাম্পপোস্টে পরীক্ষামূলকভাবে বাতি জ্বালানো হয়েছে। ৬টা ৫৪ মিনিটে ৯ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার সেতুপথের দুই পাশের সব ল্যাম্পপোস্টের আলো জ্বালিয়ে দেন প্রকৌশলীরা। তিনি আরও বলেন, সেতুর ৯৯ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে দিনে-রাতে যানবাহন চলাচলের জন্য সবটুকু কাজ শেষ হয়েছে।

সেতু বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে সেতুর ভায়াডাক্টে প্রথম ল্যাম্পপোস্ট বসানোর কাজ শুরু হয়েছিল। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সেতুতে মোট ৪১৫টি ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে মূল সেতুতে ৩২৮টি, জাজিরা প্রান্তের ভায়াডাক্টে ৪৬টি, মাওয়া প্রান্তের ভায়াডাক্টে ৪১টি ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা হয়। মূল সেতুতে ল্যাম্পপোস্ট বসানোর কাজ শেষ হয় ১৮ এপ্রিল। ২৪ মে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের ৪২ নম্বর পিলারে সেতুর সাবস্টেশনে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া হয়। শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে ৮০ কিলোওয়াট ও মুন্সিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে দেওয়া আরও ৮০ কিলোওয়াট বিদ্যুতে সেতুর ৪১৫টি ল্যাম্পপোস্টে বাতি জ্বালানো হলো।

পদ্মা সেতুতে ৪১৫টি ল্যাম্পপোস্ট ছাড়াও আর্কিটেকচারাল লাইট জ্বালানো হবে। বিভিন্ন জাতীয় দিবসে, উৎসবের নকশা করে আর্কিটেকচারাল লাইট জ্বালানো হবে। পিলারের পানির অংশ থেকে রোডওয়ে স্ল্যাব পর্যন্ত সেতু ও ভায়াডাক্টে ওই লাইট অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে জ্বালানো হবে। সেতু চালু হওয়ার পর আর্কিটেকচারাল লাইটিংয়ের কাজ শেষ করা হবে।